জাতীয় ডেস্ক | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 17 বার পঠিত

আগামী বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংগঠনটির আয়োজিত ‘তারুণ্যের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার থেকে এই প্রস্তাব করা হয়।
শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ।
বক্তৃতা করেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে ড. মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কঠিন রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসা এবং যুব বেকারত্বের হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছানো অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা করে ঋণ বাড়ছে। ব্যাংক খাতে সাড়ে ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৬ লাখ কোটি টাকাই খেলাপি।
ড. শিব্বির আহমেদ বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ আগামী ১০-১৫ বছরে কমে যাবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের এখনই সময়। বাজেটে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যক্তি বা ক্ষমতার পেছনে ছুটলে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, অতীতে বৈষম্যমূলক অর্থনীতি, ঋণনির্ভর উন্নয়ন ও দুর্নীতিনির্ভর প্রকল্প দেশের অর্থনীতিকে সংকটের মুখে ফেলেছে। যে তরুণদের আন্দোলনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে এসেছে, তাঁদের অবদানকে বাজেটে উপেক্ষা করা হলে সরকার নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।
নূরুল ইসলাম বলেন, মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের হাতে ৯০ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। এস আলম বা বেক্সিমকোর মতো বড় গ্রুপগুলো ব্যাংক লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে, অথচ সাধারণ রিকশাচালককেও ভ্যাট দিতে হচ্ছে। ইউনেস্কোর গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। সেবা ও সরকারি হাসপাতালের আধুনিকায়নে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ন্যূনতম ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।
ছাত্রশিবির শিক্ষাবান্ধব বাজেট প্রস্তাবনা আকারে শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বলেও জানান তিনি।
Posted ৬:৩৮ পিএম | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।